মিরাজ হোসেন, জাবিপ্রবি: নানা আয়োজন ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (জাবিপ্রবি) দিবস। শিক্ষা কার্যক্রমের আট বছর পূর্ণ করে আজ শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) নবম বছরে পা রাখল বিশ্ববিদ্যালয়টি। দিবসটি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
সকাল ১০টায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে বের করা হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অংশগ্রহণে শোভাযাত্রাটি প্রধান ফটক প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে গিয়ে শেষ হয়। পরে শান্তির প্রতীক পায়রা এবং বেলুন-ফেস্টুন উড়িয়ে দিবসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন অতিথিরা। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের কেক কাটা হয়।
বেলা ১১টায় কেন্দ্রীয় খেলার মঞ্চে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রোকনুজ্জামানের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম, জাবিপ্রবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন, সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. শওকত আলম মীর এবং জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আফসানা তাসলিমা।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ নূর হোসেন চৌধুরী, গণিত বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মুহম্মদ শাহজালাল, ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. মোহাম্মদ সাদীকুর রহমান ও ভারপ্রাপ্ত প্রভোস্ট ড. মুহাম্মদ ফরহাদ আলীসহ ছাত্র প্রতিনিধিরা।
শিক্ষার্থীদের সম্মাননা ও স্যুভেনির প্রকাশ
অনুষ্ঠানে দিবসটি উপলক্ষে প্রকাশিত বিশেষ স্যুভেনিরের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এ ছাড়া অ্যাকাডেমিক ফলাফলে কৃতিত্বপূর্ণ অবদান রাখায় তিন শিক্ষার্থীকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। এর মধ্যে সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থী সাইফ বাশার একই সঙ্গে ‘ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড-২০২৪’ এবং প্রকৌশল অনুষদের ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড-২০২৪’ লাভ করেন। এ ছাড়া বিজ্ঞান অনুষদে ইশরাত জাহান রিমি এবং সমাজবিজ্ঞান অনুষদে আসলিমা আক্তার তয় ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেন।
সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ও আলোকসজ্জা
দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক, একাডেমিক ভবন, হল ও রাস্তাগুলো সাজানো হয়েছে বর্ণিল আলোকসজ্জায়। দিনভর আনুষ্ঠানিকতা শেষে সন্ধ্যায় আয়োজন করা হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে গান ও নাটিকা পরিবেশন করেন সংগীতশিল্পী আমেরুল মোমেনীন মানিক ও তাঁর দল। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পরিবেশনা এবং জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘শিরোনামহীন’-এর গানে মেতে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস।
