জাবিপ্রবিতে নিয়োগ বাণিজ্য: ছাত্রদল নেতা শাকিল ও দুই গাড়িচালকের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

জাবিপ্রবিতে নিয়োগ বাণিজ্য: ছাত্রদল নেতা শাকিল ও দুই গাড়িচালকের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

মিরাজ হোসেন, জাবিপ্রবি:
দরিদ্র বোন সংসারের হাল ফেরাতে গোয়ালঘরের দুটি গরু বিক্রি করেছিলেন। ভাগনের চাকরির আশায় মামা বেলাল হোসেন সেই আড়াই লাখ টাকা তুলে দিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গাড়িচালকের হাতে। অন্যদিকে, সুদে ঋণ নিয়ে জামাইয়ের চাকরির জন্য ৯০ হাজার টাকা আরেক চালকের হাতে তুলে দিয়েছিলেন হালিম মিয়া।

​চাকরি তো মেলেনি, উল্টো টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে এখন দিশাহারা এই পরিবারগুলো। জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবিপ্রবি) ‘মাস্টার রোল’ ও ‘পিয়ন’ পদে চাকরি দেওয়ার নাম করে গড়ে ওঠা এক শক্তিশালী চক্রের ফাঁদে পড়ে এভাবেই সর্বস্বান্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

​অনুসন্ধানে উঠে এসেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়িচালক শাহিন, পলাতক গাড়িচালক বাবু এবং জাবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাকিল ফারাবির নাম। অভিযোগ রয়েছে, প্রক্টর ও উপ-উপাচার্যের (প্রো-ভিসি) নাম ভাঙিয়ে এই চক্র লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, চাকরির কথা বলে টাকা নিলেও চাকরিও দিচ্ছে না, টাকাও ফেরত দিচ্ছে না তারা ।

বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা বেলাল হোসেন। তার অভিযোগ, ভাগনের ‘অফিস সহকারী’ (পিয়ন) পদে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ধাপে ধাপে আড়াই লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়িচালক বাবু। অভিযুক্ত বাবু নিজেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দেন।

ভুক্তভোগী বেলাল হোসেন জানান, সাবেক ড্রাইভার রেহানের মাধ্যমে বাবুর সঙ্গে তার পরিচয়। বাবু তাকে জানান, চাকরি পেতে হলে সাড়ে ৩ লাখ টাকা লাগবে। এর মধ্যে ৫০ হাজার টাকা ছাত্রদলকে, আড়াই লাখ টাকা প্রক্টরকে এবং ৫০ হাজার টাকা বাবু নিজে নিবেন।
চাকরির আশায় বেলাল হোসেন তিনটি ধাপে মোট আড়াই লাখ টাকা পরিশোধ করেন। 

অনুসন্ধানে পাওয়া নথিপত্রে দেখা যায়,  গত বছরের ১৯ মার্চ  জনতা ব্যাংকের মেলান্দহ শাখায় বাবুর অ্যাকাউন্টে ৯০ হাজার টাকা জমা দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক স্লিপ যাচাই করে দেখা গেছে, অ্যাকাউন্টটি অভিযুক্ত বাবুরই। 

এছাড়া, প্রথম ধাপে ২০২৫ সালের ১৭ মার্চ বিকাশে ৫০ হাজার এবং কিছুদিন পর তৃতীয় ধাপে মেলান্দহ রেল স্টেশনে বসে নগদ ১ লাখ ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয় বলে দাবি করেন বেলাল। তখন বাবু দাবি করেছিলেন, এই টাকা প্রো-ভিসিকে দিতে হবে।

বেলাল হোসেন অভিযোগ করেন, “টাকা দেওয়ার পর ড্রাইভার শাহিনও আমাকে আশ্বস্ত করে বলেছিল ‘টাকা যখন দিছেন, চাকরি হবে। হয়তো দেরি হতে পারে।’ তবে এই অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে ড্রাইভার শাহিন বলেন, ‘আমি বেলালের সাথে এমন কোন আলোচনাই করিনি এবং এ ঘটনা আমি জানতামই না।' এদিকে ড্রাইভার রেহান, বাবু ও বেলালের লেনদেনের বিষয় স্বীকার করে এবং বলেন তিনি নিজেই এঘটনার সাক্ষী ছিলেন।

নিয়োগ বাণিজ্যের আরেকটি ঘটনায় ড্রাইভার শাহিন ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাকিল ফারাবির বিরুদ্ধে ৯০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন হালিম মিয়া। 

তিনি অভিযোগ করে জানান, প্রায় ৮-৯ মাস আগে ভুক্তভোগী হালিম মিয়ার বিএ পাস জামাইকে বিশ্ববিদ্যালয়ে 'মাস্টার রোলে' চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখান গাড়ি চালক শাহিন। চুক্তি হয় সাড়ে তিন লাখ টাকার। এর মধ্যে ১ লাখ টাকা অগ্রিম দিতে বলা হয়।

ভুক্তভোগী হালিম মিয়া বলেন, "রাত তখন ৯টা বাজে। শাহিন আমাকে ফোন করে বলে, 'কাকা, এখনি টাকা দেন, কালকেই চাকরি হবে।' আমি এবং আমার বেয়াই (চাকরিপ্রার্থীর বাবা) মিলে সুদে টাকা ধার করে রাতে শাহিনের হাতে তুলে দিই। আমার জামাইয়ের কাগজপাতি ফটোকপি করে রাতেই জমা দেওয়া হয় তাদের কাছে।"

 হালিম মিয়া অভিযোগ করে বলেন, "শাহিন আমাদের বলেছে, এই টাকা প্রো-ভিসি স্যারকে দেওয়া হবে। এরপর যখন চাকরি হচ্ছিল না, তখন বলা হলো ভিসি স্যার বিদেশে আছেন, তিনি ফিরলেই  ২৮ তারিখের মধ্যে নিয়োগ চূড়ান্ত হবে।" এভাবে প্রশাসনের শীর্ষ ব্যক্তিদের নাম ভাঙিয়ে মাসের পর মাস কালক্ষেপণ করা হয়।

চাকরি না হওয়ায় ভুক্তভোগীরা টাকা ফেরত চাইলে ঘটনার মোড় নেয় অন্যদিকে। এ সময় চালক শাহিনের সহযোগী হিসেবে সামনে আসেন ছাত্রদল নেতা শাকিল ফারাবি। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ-বৈঠক হলেও টাকা ফেরত পাওয়া যায়নি।

হালিম মিয়া দাবি অনুযায়ী, এক সালিশে সবার সামনেই শাকিল ফারাবি স্বীকার করেন যে, তিনি শাহিনের কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকা নিয়েছেন এবং শাহিন নিজে ১০ হাজার টাকা রেখেছেন। ফারাবি তখন প্রতিশ্রুতি দেন, তিনি টাকা ফেরত দেবেন। এমনকি তিনি এমন কথাও বলেন,  "প্রয়োজনে কলিজা বিক্রি করে হলেও ২ তারিখের মধ্যে টাকা শোধ করব।" কিন্তু সেই প্রতিশ্রুত তারিখ বারবার পার হয়ে গেলেও টাকা ফেরত পায়নি ভুক্তভোগী পরিবার।

টাকা আদায়ের জন্য ভুক্তভোগী পরিবার স্থানীয় নেতা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের শরণাপন্ন হন। প্রতিবারই ১০ দিন বা ২০ দিনের সময় নেওয়া হয়, কিন্তু নির্দিষ্ট তারিখে অভিযুক্তরা ফোন বন্ধ রাখেন বা কল ধরেন না বা নানা অজুহাত দেখান। সর্বশেষ চলতি মাসের ২ তারিখের মধ্যে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও ভুক্তভোগী টাকা পাননি। হালিম মিয়ার আক্ষেপ, "আমরা গরিব মানুষ। টাকা ফেরত না দিয়ে তারা শুধু তারিখের পর তারিখ দিচ্ছে।"

তবে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ড্রাইভার শাহিন। তিনি দাবি করেন, ভুক্তভোগী হালিম মিয়া সরাসরি ছাত্রদল নেতা শাকিল ফারাবির হাতেই ৯০ হাজার টাকা তুলে দিয়েছেন।
​শাহিন বলেন, ‘হালিম কাকা নিজের হাতেই শাকিলকে টাকা দিয়েছেন। এ ঘটনায় শাকিল ফারাবির সহযোগী জিকু ও ইফতি উপস্থিত ছিল। শাকিল পুরো ৯০ হাজার টাকাই নিয়েছে এবং স্ট্যাম্পও দিছে। আমি এই টাকার ভাগ নিইনি।’

​নিজেকে পরিস্থিতির শিকার দাবি করে শাহিন আরও বলেন, ‘আমি এলাকার মানুষ, আবার ভার্সিটির স্টাফ। তাই মানুষ আমার কাছে খোঁজখবর নিতে আসে। এখন আমি ‘হ্যাঁ’ বললেও দোষ, ‘না’ বললেও দোষ। বাংলা সিনেমার মতো আমার নামটা এখানে জড়ানো হয়েছে।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রদল নেতা শাকিল ফারাবি বলেন, ‘আমি ক্যাম্পাসে কম থাকি। এসবের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। এটি আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হতে পারে।’

তবে শাকিল ফারাবির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘শাকিল একবার আমার কাছে এসে খুব অনুরোধ করে বলেছিল—স্যার, একটা ছেলে খুব গরিব, তাকে যদি সুযোগ দেওয়া হয়। আমি তখন তাকে সতর্ক করে বলেছিলাম, তুমি আজ একজনকে নিয়ে আসছ, কাল দেখা যাবে লোকে বলবে তুমি টাকা নিয়েছ। তুমি কি গ্যারান্টি দিতে পারবে? আমি তাকে প্রশ্রয় দেইনি। স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার বাইরে ব্যক্তিগত আবদারে এখানে কোনো নিয়োগ হবে না।’

এদিকে কয়েক দিনের প্রচেষ্টায় পলাতক ড্রাইভার বাবুর সাথে যোগাযোগ করতে সক্ষম হলে আড়াই লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ও পলাতক থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি মুঠোফোনে সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “এসব বিষয় কিছুই না। মানুষের মুখের কথা কোনো সময় বিশ্বাস করবেন না। মানুষ বিভ্রান্তি ছড়ায়।” 

কর্মস্থলে অনুপস্থিতির বিষয়ে তিনি অসুস্থতার দোহাই দিয়ে বলেন, “আমি অসুস্থ, তাই ছুটিতে বাড়ি এসেছি। আগামী রবিবার ক্যাম্পাসে এসে এবিষয়ে সরাসরি কথা বলব।” রবিবার পর্যন্ত তার জন্য অপেক্ষা করলেও তিনি ক্যাম্পাসে আসেননি এমনকি মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ধরেন নি।

প্রতিবেদনটি তৈরির শেষ মুহূর্তে ঘটনায় নতুন ও নাটকীয় মোড় নেয়। অনুসন্ধানের চাপে পড়ে গত বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে ভুক্তভোগী হালিম মিয়ার বাড়িতে গিয়ে শাকিল ফারাবি  ৩০ হাজার টাকা দিতে চাইলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং পুরো টাকার দাবি জানান। এক পর্যায়ে টাকা আদায় করতে গিয়ে তিনি শাকিলকে আটকে দিলেও এক ব্যক্তির ফোনে তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। পরে শাকিল স্থানীয় এক ব্যক্তির জিম্মায় সেই ৩০ হাজার টাকা রেখে চলে যান বলে জানান হালিম মিয়া।

অনুসন্ধানের একপর্যায়ে ভুক্তভোগী হালিম মিয়ার কাছে সংরক্ষিত তিনটি ১০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পের অনুলিপি (কপি) এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। এসব স্ট্যাম্প পর্যালোচনায় বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

​দেখা গেছে, স্ট্যাম্পগুলোতে কোনো লিখিত শর্ত বা অঙ্গীকারনামা নেই। তবে ১০০ টাকার এই ফাঁকা স্ট্যাম্পের ওপরের অংশেই রয়েছে ছাত্রদল নেতা শাকিল ফারাবির স্পষ্ট স্বাক্ষর। স্ট্যাম্পের পেছনের ভেন্ডর সিল ও তথ্য যাচাই করে দেখা যায়, এগুলো কেনা হয়েছিল গত বছরের ৯ নভেম্বর (০৯/১১/২৫)। সেখানে ক্রেতার নামের স্থানে ভুক্তভোগী হালিম মিয়ার নাম উল্লেখ রয়েছে।

​সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শাকিল ফারাবি এতদিন অভিযোগটিকে ‘ষড়যন্ত্র’ বলে উড়িয়ে দিলেও এই স্ট্যাম্প তাঁর সংশ্লিষ্টতার অকাট্য প্রমাণ। সাধারণত অবৈধ অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে ‘জামানত’ হিসেবেই এমন ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর রেখে দেওয়ার অলিখিত প্রথা রয়েছে। ভুক্তভোগীর কেনা স্ট্যাম্পে নিজের স্বাক্ষর এবং রাতের আঁধারে তড়িঘড়ি করে টাকা ফেরত দেওয়ার চেষ্টা—সব মিলিয়ে নিয়োগ বাণিজ্যে তাঁর প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার বিষয়টিই এখন স্পষ্ট।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী চক্রটি টাকা নেওয়ার সময় উপ-উপাচার্য এবং প্রক্টরের নাম ব্যবহার করে। তবে প্রশাসন এই অভিযোগ কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।

প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) ড. মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান জানান, আমার নাম ব্যবহার করে কোনো চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন- এমন অভিযোগ শুনে তিনি হতবাক। তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে বলেন, “সে আমার নাম ভাঙিয়ে টাকা নিয়ে থাকলে সেটা অপরাধ। এর সাথে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। আমি ভুক্তভোগী বেলাল বা অন্য কাউকে চিনি না।”

উপ-উপাচার্য (প্রো-ভিসি) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেনও  ড্রাইভার বাবু এবং শাহিনের সাথে তার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা থাকার কথা সম্পূর্ণ নাকচ করে দেন। তিনি জানান, অভিযুক্তদের সাথে তার চাকরি সংক্রান্ত কোনো আলাপ তো দূরের কথা, সাধারণ কথাবার্তাও তেমন হয়নি। তিনি বলেন, “মাটি খুঁড়েও যদি কেউ প্রমাণ করতে পারে যে আমার সাথে তাদের কথা হয়েছে, আমি মাথা পেতে নেব। এই ড্রাইভারদের সাথে আমার কোনো ব্যক্তিগত বা দাপ্তরিক যোগাযোগ নেই।”

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান এ বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করে বলেন, “যদি কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী টাকা লেনদেনের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে ২০১৮ সালের চাকরি বিধি অনুযায়ী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে যারা টাকা দিয়েছেন দেশীও আইনে বিচার হবে।”

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মতো একটি সংগঠনের নেতা হয়েও শাকিল ফারাবির বিরুদ্ধে এমন গুরুতর আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ ওঠায় সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে শাকিল ফারাবি নিজেই বলেছিলেন, “আমাদের সংগঠনের নাম খারাপ করলে আমরা অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব।” অথচ এখন তাঁর বিরুদ্ধেই অভিযোগের তীর।

​ভুক্তভোগীদের অভিযোগে ছাত্রদলের নাম উঠে আসায় এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব যীনাত মিয়া আজিজুল অর্থ লেনদেন ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, তিনি বা তাঁর সংগঠন এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন; বরং দলের নাম ভাঙিয়ে কোনো চক্র এই অপকর্ম করছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ব্যক্তির অপরাধের দায় সংগঠন নেবে না। তবে কারো বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশ অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অনুসন্ধানে দেখা যায়, এই চক্রটি মূলত ‘ত্রি-পক্ষীয়’ পদ্ধতিতে কাজ করে। 
প্রথমে চালকরা সাধারণ মানুষের সাথে মিশে চাকরির প্রলোভন দেখান এবং প্রাথমিক আলোচনা করেন।

দ্বিতীয় ধাপে ছাত্র নেতাদের নাম ব্যবহার করে বা তাদেরকে সরাসরি হাজির করে নিয়োগের ‘গ্যারান্টি’ দেওয়া হয়। বোঝানো হয়, প্রশাসনের ওপর তাদের হাত আছে। তৃতীয়ত বিশ্বাস অর্জন ও টাকা আদায়ের সময় প্রো-ভিসি ও প্রক্টরের নাম ভাঙিয়ে বলা হয়, “স্যারদের ম্যানেজ করতে হবে।”

অভিযুক্ত ড্রাইভার বাবু এখন পলাতক। ড্রাইভার শাহিন টাকা লেনদেনের বিষয়ে তথ্য দিলেও দায় চাপাচ্ছেন শাকিল ফারাবির ওপর। আর শাকিল পুরো বিষয়টি অস্বীকার করছেন। মাঝখানে পিষ্ট হচ্ছে সর্বস্বান্ত পরিবারগুলো। ভুক্তভোগী শাহিদা (চাকরি প্রার্থীর মা) কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি গরিব মানুষ, সুদের টাকা গুনতে গুনতে আমি শেষ। আমি আমার টাকা ফেরত চাই।”

নবীনতর পূর্বতন